|
কানাডায় নির্বাচনী হাওয়াঃ ভোটা’র
প্রবনতা
প্রধানমন্ত্রী
স্টিফেন হারপারও
অনুরুপভাবে
বিরোধীদলের
নিয়ন্ত্রনে থাকা নির্বাচনী এলাকাগুলোতে সফরের কর্মসূচী নিয়েছেন
বলে সংবাদ সূত্রে সম্প্রতি প্রকাশ।
জানাগেছে, কানাডার ১১৪ বছরের ইতিহাসে
সংখ্যালগু
সরকার
এর এতো দীর্ঘ সময়
ক্ষমতায়
টিকে থাকার এটি দ্বিতীয় নজির। কানাডার
নির্বাচনী
ইতিহাসে কতগুলো বিষয় বিশেষভাবে লক্ষনীয়, আর তাহলো ভোট ব্যবস্থায় পরিবর্তন,
নারীদের ভোটাধিকারের স্বীকৃতি, সার্বজনীনতা এবং জনগনের ভোটদান প্রবনতায়
পরিবর্তনের ধারা।
উল্লেখ্য, এলেন বর্ডমেন্ট (জুন ২০০৯) এ ভোটাধিকার নিয়ে ভাবনা ও গবেষনার
প্রশ্নে একটি আলোচনার সুত্রপাত করেন। তার মতে,
“কারা
ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে সে বিষয়ে আমরা নীতি প্রনয়ন করতে পারি, কোন
নির্বাচনে তাও,
যা আমরা ভাল মনে করি। এতে সময় এসেছে পরিবর্তনের এবং আবারো আসতে পারে,
জাতির প্রয়োজন মেটাতে”।
এলেনের যুক্তি ও তথ্যানুসারে মিউনিসিপাল
নির্বাচনে
ল্যান্ডেড ইমিগ্রান্টদের ও ভোটাধিকার দেয়া যেতে পারে কারন উত্তর ইউরোপীয়
দেশগুলোর মধ্যে ডেনমার্ক, হল্যান্ড, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও আইল্যান্ড সহ
ইউরোপের ১৭টি দেশে এবং পৃথিবীর মোট ৩০টি দেশে এ ব্যবস্থা প্রচলিত আছে।
কানাডার নির্বাচনী
ইতিহাস এ পরিবর্তনের ধারা কালের সাক্ষী হয়ে রয়েছে।
নির্বাচন
কানাডার
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায় যে (১৭৫৮-১৮৬৬) এক সময়
নির্বাচন
ছিল বিশেষ জনগোষ্টীর এবং তা নির্বাচন হতো সহায় সম্পত্তির মালিকানা ও
ট্যাক্স পরিশোধের পরিমান অথবা ভাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর। এছাড়াও আইন
ধর্মীয় ইথেনিক গ্রুপগুলোর ভোটাধিকারকেও সীমিত করেছিলো। ভোট দেবার অধিকার
প্রয়োগ ছিলো সামঞ্জস্যহীন এবং বিশৃংখল।
কানাডার নির্বাচনী ইতিহাসে আইন ও বাস্তবমুখীনতার সংঘাত দেখা যায় দীর্ঘদিন।নির্বাচকেরা
অনেকেই জানতো না কি তাদের অধিকার এবং কিভাবে তা প্রয়োগ করতে হবে। এক সময়
ভোট কেন্দ্র থেকে দূরত্বে বসবাসকারী ভোটারদের দূর্যোগপূর্ণ অবহাওয়ায় ভোট
দিতে আসা ছিলো খুবই কষ্টকর। সে সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন সহিংসতা এবং ভাড়াটে
গ্যাঙ কর্তৃক ভোটকেন্দ্র দখলেরর ঘটনা ও ঘটতো। কানাডায় ভোট ছিলো এক সময়
মূর্তিমান আতংক ও সহিংসতার নাম।
উচ্চ ও নিন্ম কক্ষে ভোট ব্যবস্থায় অমুল পরিবর্তন আসে সাংবিধানিক এ্যাক্ট
১৭৯১ এর মাধ্যমে এবং ১৭৯২ সালে উভয় কক্ষের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৮৩২ সালে
মন্ট্রিয়ালে ফলাফল প্রকাশের প্রাক্কালে নির্বাচনী গোলযোগে ৩ জনের মৃত্যু হয়।
১৮৩৪ সাল পর্যন্ত মহিলাদের জন্য ভোট কেন্দ্র যাওয়া ছিলো অনিরাপদ, তাদের
ভোটাধিকার সীমিত করতে পার্লামেন্টের নিন্ম পরিষদে আইন প্রণয়ণ করলে লন্ডন তা
প্রত্যাখান করে। ১৭৯১ সালের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় ও ১৮৪০ সালে এ্যাক্ট
অব ইউনিয়নের মাধ্যমে কানাডার উচ্চ ও নিন্ম পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
১৮৬১ সালে প্রথম রেজিষ্টার ব্যবহারের মাধমে কানাডায় মিউনিসিপাল র্নিবাচন
শুরু হয়।
২০১০ সালের ডিসেম্বরে কানাডীয়ান নির্বাচন পর্যবেক্ষন এর এক জনমত সমীক্ষায়
প্রকাশ-কনজারভেটিভ
দল ১৩৭, লিবেরাল ৮৫, ব্লক ৫২, এন, ডি, পি ৩৪ আসন পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। সে
হিসাবে
কনজারভেটিভ
লিবেরাল দল থেকে ৭,৭% এগিয়ে।
কানাডার নির্বাচনে যুব সম্প্রদায়ের অংশ গ্রহন একটি গুরুত্বপূর্ন ইস্যু হয়ে
দাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণায় দেখা যায় যুবকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের
প্রবণতা তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। ২০০৩ সালের মার্চে জন আইচ প্যামেট ও
লরেন্স লিডউক ফেডারেল ইলেকসানে নন ভোটারদের উপর সংগৃহিত উপাত্তে দেখা যায়
যে নির্বাচনে যুব ভোটারদের উপস্থিতির হার ছিলো মাত্র ২২.৪%। অপরদিকে ৫৮ বছর
এর উর্দ্ধে ভোটারদের সংখ্যা কখনো ৮০% এর বেশি।
শুধু যে যুবকদের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগে অনীহাই রয়েছে তা’ই
নয় বরং তারা রাজনীতি সম্পর্কে জানতে ও এতে সময় দিতে পর্যন্ত খুব আগ্রহী নয়।
গবেষকদের মতে পলিটিকাল সাইনিসিজম বা সেন্টিম্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু
গুলো তুলে ধরতে ব্যর্থতার কারনে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যক্তি স্বার্থ
মানব চরিত্রের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ঠ্য, ক্যাপেলাক ও জ্যামিসন ( ১৯৯৭,
১৬৬ ) এর মতে কোন বিশেষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অথবা দল ও পদ্বতি সম্পর্কে
অবিশ্বাস ও অনাস্থার কারনেও রাজনীতির উপর মানুষ বীতশ্রদ্ব হয়ে উঠে।
স্থানীয় পর্যায়ে ভূল প্রাথী নির্বাচন, বিভিন্ন প্রশাসনিক অব্যবস্থার মতো
বিষয়গুলো গনমানুষের কাছে কখনো কখনো নির্বাচনী বিচার্য্য বিষয়ে পরিনত হয়।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারনা কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটারদের
প্রচলিত প্রবণতার পরিবর্তন আনতে সামর্থ হলে রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী গুলো
আসন্ন নির্বাচনী ফলাফলে ইপ্সিত সফলতা আনতে সমর্থ হবে।
ফেডারেল ইলেকশানে ভোটারদের উপস্থিতির হার বিশেষ ভাবে এখানে উল্লেখ্য,
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গড়ে ভোটার উপস্থিতির হার ছিলো ৭০% । দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তা বৃদ্ধি পেয়ে দাড়ায় ৭৫% । তবে ১৯৫৩
সালে ৬৭,৫% এবং ১৯৮০ সালে তা ৬৯,৩%। ১৯৬৩ সাল হতে প্রায় বিশ বছর
লিবারেল পার্টি
ক্ষমতায় ছিলো এবং সে সময়ে
বিরোধী দলের
নির্বাচনে জয়ী হবার সম্ভাবনা ছিলো খুবই ক্ষীণ। একথা ও সত্যি যে কিছু কিছু
ক্ষেত্রে ভোটারদের কম উপস্থিতি অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের জন্য ভোটে জয়ী হতে
সহায়ক হয়। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটা ভিন্ন। ১৯৮০ সালে
লিবারেল পার্টি
জো ক্লার্কের কনজারভেটিভ সরকারকে পরাস্ত করেছিলো। সে সময়ে কনজারভেটিভ পার্টি
মাত্র ৬ মাস ক্ষমতায় ছিলো কিন্তু কিছু বিতর্কিত ট্যাক্স প্রবর্তন বা
বৃদ্ধির কারনে সংসদে অনাস্থা ভোটে সরকারের পতন হয়। এ অনাস্থা ভোটে জনমতের
প্রতিফলন ঘটে পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে।
কানাডার
আসন্ন বাজেট অধিবেশন সে বিবেচনায় খুবই তাৎপর্য্যপূর্ন। রাজনৈতিক বোদ্ধারা
তাই পরিস্থিতির উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।
লেখকঃ
দেলোয়ার
জাহিদ,
মুক্তিযুদ্ধে ভৈরবঃ শহীদ নুরু-আতিকের অবদান ও গ্যালান্টারি
অ্যাওয়ার্ড বৈষম্য
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাহসকিতাপূর্ণ অবদানের জন্য স্বাধীনতার পর পদক বিতরণ নিয়ে
পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে জোড়ালো কতগুলো অভিযোগ তুলেছেন মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী
ভূইয়া এমপি। মুক্তিযোদ্ধাদের গ্যালান্টারি অ্যাওয়ার্ড বিতরণ নিয়ে বৈষম্য ও
পক্ষপাতিত্বের এ অভিযোগগুলোকে মোটেই খাট করে দেখার অবকাশ নেই। সাংবাদিক সাইফুল
ইসলাম তালুকদারের প্রকাশিত এ প্রতিবেদনটিতে মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের
স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালের ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যে গ্যালান্টারি
অ্যাওয়ার্ড বা সাহসিকতা পদক বিতরণ করা হয়েছে তা নিয়ে চরম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।
যারা জীবন বাজি রেখে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়ে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য ছিনিয়ে আনার পাশাপাশি
পাকিস্থানী হানাদারদের কাছে ছিলেন সাক্ষাৎ যমদূত তাদের অনেকেই কোন পদক পাননি। আবার
এমন অনেকেই পদক পেয়েছেন যারা মুক্তিযোদ্ধা হলেও পদক পাওয়ার মতো কোনো সাফল্য দেখাতে
পারেনি বা কোন কোন ক্ষেত্রে তারা মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্য সরবরাহ করে নানাহ সুবিধা
বা ফায়দা লুটেছেন।
মুক্তিযুদ্ধে সাহসকিতাপূর্ণ অবদানের জন্য গ্যালান্টারি অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির
নিঃসন্দেহে হকদার হওয়া সত্বেও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন ভৈরবের দুই মহান মুক্তিযোদ্ধা
শহীদ নুরু ও আতিক। তাদের একজন গর্বিত সহযোদ্ধা হিসাবে মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী
ভূইয়ার মতো আমি ও এ বৈষম্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই অ্যাওয়ার্ডগুলো- ‘বীরশ্রেষ্ঠ’,
‘বীরউত্তম’, ‘বীরবিক্রম’ ও ‘বীরপ্রতীক’ নির্ধারন ও এর বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা
নিয়ে হয়তো উচ্চ আদালতে প্রশ্ন তোলা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই কিন্তু বিষয়টি কোন ভাবেই
মেনে নেয়া যায় না। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে বিষয়টি এখনই নিস্পত্তি করা সম্ভব।
যুদ্ধের প্রারম্ভ । কুমিল্লা থেকে ভৈরবে পালিয়ে গেলাম। পাক হানাদার বাহিনী যখন ভৈরব
বাজার দখলে নেয়ার সর্বাত্মক আক্রমন ও প্রচেষ্টা চালিয়েছে তখন নুরুর নেতৃত্বে আমরা
তাদের প্রতিহত করতে বল্লম হাতে ছুটে গিয়েছিলাম। প্রচন্ড গোলাগুলির মধ্যে দৌলতকান্দি
হয়ে যখন ভৈরব পৌঁছি তখন বিমান থেকে মেশিনগান দিয়ে পাক সেনারা অবিরাম গুলি ছুড়ছে।
সবাই এদিক সেদিক ছুটাছুটি করছে, মানুষ পালাচ্ছে, আমরা ও তখন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে
। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর কিনারে ছুটে এলাম পরিত্যক্ত দুটি রাইফেল নিয়ে। হাজারো
নারী পুরুষ, শিশু কিশোর নদী পারাপারের অপেক্ষায় । লোক পারাপারে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে
মাঝি-মাল্লারা । নুরু লাফিয়ে নৌকায় উঠলেন এবং সবাইকে তাতে উঠতে আদেশ দিলেন। আমরা
নৌকার নিয়ন্ত্রন নিলাম কিন্তু বল প্রয়োগ ছাড়াই শেষ পর্যন্ত মাঝিরা লোক পারাপারে
সহায়তা করলো।
মুক্তিযুদ্ধে নুরুর বিভিন্ন দু:সাহসী অভিযানের খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো। স্বাধীন
বাংলা বেতার থেকেও তা প্রচারিত হলো। নুরুর যুদ্ধে দায়িত্ব পালনের সরকারী প্রত্যায়ন
পত্রটি আমার কাছে ছিলো দীর্ঘদিন । আর তা লিখেছিলেন তদানিন্তন মেজর (বর্তমানে অব:
মেজর জেনারেল) মঈন এ চৌধুরী| নুরু তৎকালীন ভৈরব থানার ওসি কুতুবুর রহমান এবং কর্ণেল
(অব:) নুরুজ্জামানকে ও ভারত পৌঁছে দেন। কুতুবুর রহমান সাহেব ভৈরববাজারে ব্যাংক
লুটের সমস্ত টাকা-পয়সা অসীম সাহাসী নুরুকে নিয়েই স্বাধীন বাংলা সরকারের নিকট পৌঁছে
দেন। দু:সাহসী কুতুবুর রহমান ওসি ও ছিলেন একজন কিংবদন্তীর নায়ক।
৪ জুলাই, ১৯৭১ । প্রকাশ্য দিবালোকে পাক বাহিনী বেষ্টিত ভৈরব বাজারে দালাল শিরমনি
মমতাজ পাগলার আড্ডায় তরকারীওয়ালার ছদ্মবেশে অতর্কিত আক্রমন চালায় নুরু আতিক ও মোহন,
হত্যা করে মমতাজ পাগলা ও তার দূসরদের। ঘটনাস্খলে শহীদ হন আতিক এবং মারাত্মক আহত
অবস্খায় নুরু পাকবাহিনীর কাছে ধরা পড়েন আর পালিয়ে আসে মোহন। নুরুকে বর্বরোচিত ভাবে
গুলি করে হত্যা করে পাক সেনারা। দেশবাসী তাদের রক্তের ঋণ আজো শোধ করতে পারেনি ।
একটি সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু আজো স্বাধীনতার
সুর্য্য ফসল আমাদের ঘর উঠে আসেনি। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ভৌগলিক স্বাধীনতা এনে দিয়েছে
সত্য কিন্তু আজো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি। আজো
হয়নি একাত্তরেরর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, হয়নি সন্ত্রাসমুক্ত অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার
প্রচেষ্টার ফসল সমাপ্তি ।
স্বাধীনতার সুর্য্য ফসল উঠেছে হায়েনাদের গোলায়। আজকের নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের
বিশাল ইতিহাসের মুখোমুখি দাড়িয়ে সত্যের সন্ধানে ।
মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদ পরিবারগুলোর অশ্রুসিক্ত মুখগুলো প্রতিনিয়ত আমাদের
চোখে পড়ে। শহীদ সন্তানের জননীর, স্বামীহারা বিধবার, পিতৃহারা সন্তানের, সন্তানহারা
মা বোনের দু:সহ ব্যথিত হৃদয়ের দীর্ঘশ্বাস আর নি:শব্দ কান্নায় আজো এদেশের আকাশ বাতাস
ভারী হয়ে আছে । ক্ষমতার পালা বদলে ওদের ভাগ্যের চাকা ঘুরেনি এখনো । সরকার বদল আর পট
পরিবর্তনে শুধু প্রতিশ্রুতির পাল্লাই ভারী হয়েছে।
৩ নং সাব সেক্টরের নারায়নপুর মুক্তাঞ্চলে গেরিলা যুদ্ধের বিশিষ্ট সংগঠক নুরুর
শাহাদাত বরনের পর চরম এক নেতৃত্ব শূন্যতার সৃষ্টি হয় । সেখানে তখন এফএফ এবং বিএলএফ
এর যৌথ কমান্ড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয় গঠিত হয় সর্বদলীয় যুদ্ধ পরিচালনা কমিটি
আমাকে ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক মনোনীত করা হয়। তরুন বয়সে ও এ বিশাল দায়িত্বের বোঝা
আমাকে এতটুকু বিচলিত করেনি। শহীদ নুরু আতিকের আশীর্বাদই ছিলো আমার অনুপ্রেরনার উৎস।
আওয়ামী লীগ নেতা সার্জেন্ট কাদের, নসা কাজী, ফকির সুরুজ মিয়া, আবদুল হান্নান,
ওয়ালীউল্লা প্রমুখ এতে যোগ দেন| আমার জেঠা ন্যাপ নেতা পন্ডিত আবদুস ছোবহান সহ আরো
কয়েকজন ওই কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত হন। কর্ণেল (অব:) নুরুজ্জামানের শিক্ষক গয়েস আলী
মাস্টার এফএফ কমান্ডার এবং সাদত আলী মেক্তার, নুরুল ইসলাম প্রমুখ আমাদের সর্বাত্মক
সহযোগিতা করেন এবং যুদ্ধে অংশ নেন।
রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পরিবারের সদস্য ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা ফসয়ল
আলম, যুবনেতা আক্কাস আলম, বিশিষ্ট যোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ওরফে দুলা মিয়া সহ অনেকেই
আমার সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করেন। স্নেহাম্পদ সাদেক, এক তরুন যোদ্ধা (বর্তমানে
বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ স্খানীয় পরিষদ চেয়ারম্যান) সে সময়ে ছিলো জীবন বিসর্জন দেয়ার
জন্য উন্মুখ ।অনেক সহযোদ্ধার কথাই মনে পড়ে । মনে পড়ে তাদের সাহসিকতা এবং সর্বোচ্চ
ত্যাগের অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্তের কথা।
১৯৭২ সালে ভৈরব বাজারে আয়োজিত এক বিশাল জন-সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং
বর্তমান রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান উভয়েই নুরু আতিকের স্মৃতির প্রতি আবেগময় ভাষায়
শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং অত্রা—লে আমাদের প্রতিরোধ ও গেরিলা যুদ্ধের ভূয়সী প্রশংসা
করেন| মহান নেতৃদ্বয় নুরু-আতিকের ত্যাগের মূল্যায়ন করার ও আশ্বাস দেন কিন্তু আজো
রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি মিলেনি নুরু আতিকের। ঝুলে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের দেয়া প্রতিশ্রুতি।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাহসকিতাপূর্ণ অবদানের জন্য স্বাধীনতার পর পদক বিতরণ নিয়ে
পক্ষপাতিত্বের যে অভিযোগ উঠেছে তার আশু প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন । বর্তমান সরকার
কর্তৃক শহীদ নুরু-আতিক সহ যারা বিভিন্ন সেক্টরে শহীদ হয়েছেন তাদের অবদান
পুনর্মূল্যায়ন করে গ্যালান্টারি অ্যাওয়ার্ড বৈষম্য দূর করা উচিত।
জেনারেল সুবিদ আলী ভূইয়া এমপি,এর মতো আমি ও আশাবাদী যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে ১৯৭২ সালে
পদক বঞ্চিতদের পদকে ভূষিত করে ইতিহাস রচনা করবেন এবং প্রজ্ঞার পরিচয় দিবেন।
দেলোয়ার জাহিদ
|